সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

গাজায় নিজের ফাঁদে আটকে গেছে ইসরাইল


গাজায় নিজের ফাঁদে আটকে গেছে ইসরাইল



ইসরাইলের মন্ত্রিসভা শনিবার রাতে গাজার যুদ্ধের সর্বশেষ অবস্থা নিয়ে আলোচনা করে যুদ্ধবিরতি ২৪ ঘণ্টা বৃদ্ধি করে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ইসরাইলি কর্মকর্তা বলেন, ‘জাতিসঙ্ঘের অনুরোধে মন্ত্রিসভা মানবিক যুদ্ধবিরতি আগামীকাল (রোববার) মধ্য রাত পর্যন্ত বৃদ্ধিকে অনুমোদন করে। তবে ইসরাইলি বাহিনী যুদ্ধবিরতির যেকোনো লংঘনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। তিনি আরো বলেন, যুদ্ধবিরতি চলাকালেও ইসরাইলি বাহিনী হামাসের টানেলগুলো ধ্বংস করার কাজ অব্যাহত রাখবে।
এর আগে হামাস যুদ্ধবিরতি চার ঘণ্টা সম্প্রসারণের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে এবং আরো একদিন যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাবও তারা প্রত্যাখ্যান করে। ইসরাইল দাবি করেছে শনিবার সন্ধ্যায় ইসরাইলে হামাসের নিক্ষিপ্ত রকেটে দুই ইহুদি আহত হয়েছে। তবে শনিবার রাতে কোনো পাল্টা হামলা চালানোর খবর পাওয়া যায়নি। রোববার সকালে ইসরাইল ফের হামলা শুরু করে। এতে অন্তত পাঁচজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়। পরে হামাস যুদ্ধবিরতি ২৪ ঘণ্টা সম্প্রসারণ প্রস্তাব মেনে নেয়। গতকাল স্থানীয় সময় বেলা ২টা থেকে তা কার্যকর হয়।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি অধিকতর স্থায়ী যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর বিষয়ে দিন ভর আলোচনা করার পর এ প্রস্তাব দেয়া হয়। ইসরাইল এ ধরনের যুদ্ধবিরতির বিষয় রুঢ়ভাষায় প্রত্যাখ্যান করে আসছে। যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে যুগপৎভাবে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। একজন সিনিয়র ইসরাইলি কর্মকর্তা বলেন, ‘পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটছে।’  হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য মুহাম্মাদ নাজ্জাল আল জাজিরাকে বলেন, হামাসও কেরির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।
ইসরাইলের জননিরাপত্তা মন্ত্রি আইজ্যাক আহরোনোভিচ আভাস দিয়েছেন যে, কেরির ইচ্ছেমতো দ্রুত কোনো স্থায়ী যুদ্ধবিরতির ব্যাপারে তারা রাজি হবেন না। তিনি বলেন, ‘ইসরাইল বড় ধরনের হুমকির মধ্যে থাকা অবস্থায় দীর্ঘ স্থায়ী কোনো চুক্তিতে আমরা রাজি হবো না। আমরা কেরির প্রচেষ্টার প্রশংসা করছি কিন্তু আমরা আমাদের হুমকির সম্মুখীন জনগণের নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে রয়েছি।
গাজা থেকে ইসরাইলে রকেট নিক্ষেপ বন্ধের লক্ষ্যে ৮ জুলাই ইসরাইল বিমান হামলা শুরু করে উপত্যকার জনগণের বিরুদ্ধে। এরপর হামাসের টানেল ধ্বংসের লক্ষ্যস্থলে হামলা শুরু করে ১১ দিন আগে। এ অভিযানে ইসরাইলের পক্ষে এ পর্যন্ত ৪০ সৈন্য ও তিন অসামরিক লোক নিহত হয়েছে।
ইসরাইল মনে করছে, গাজায় ক্রমবর্ধমান সামরিক উপস্থিতি ও প্রবল চাপ হামাসকে গাজার ওপর থেকে ইসরাইল ও মিসরের অবরোধ প্রত্যাহারের তার দাবি মানা ছাড়াই যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব মেনে নিতে বাধ্য করবে। আট বছরের এ অবরোধে গাজার অর্থনীতি প্রায় পঙ্গু হয়ে গেছে।
ইসরাইলি বিশ্লেষক ও আল মানিটর ওয়েবসাইটের সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট একিভা এল্ডার বলেছেন, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকারের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রয়োজনে ইসরাইল যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব উপেক্ষা করে সামরিক হামলা অব্যাহত রেখেছে। তিনি বলেন, ‘টানেলগুলোকে ইসরাইলের অস্তিত্বের জন্য হুমকি বলে নিজ প্রচারণার জালে আটকা পড়েছে ইসরাইল সরকার। সেগুলো যদি অস্তিত্বের প্রতি হুমকি সৃষ্টি করে তা হলে সেগুলো ধ্বংস করা ছাড়া সরকার কিভাবে যুদ্ধ শেষ করতে পারে?’
একিভা এল্ডার বলেন, ইসরাইল সরকারের জন্য এ যুদ্ধে কোনটাই হতে পারবে না। কে জয়ী হয়েছে তা সুস্পষ্ট হতে হবে। এর অর্থ হবে সেনাপ্রধানকে ঘোষণা দিতে হবে যে, সব টানেল ধ্বংস করা হয়েছে।
শনিবার প্যারিসে গাজায় ভয়াবহ ইসরাইলি হামলা ও হামাসের রকেট নিক্ষেপ বন্ধের লক্ষ্যে কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত  রাখেন কেরি। তিনি ইসরাইলের মিত্র ফ্রান্স, ব্রিটেন, জার্মানি, ইটালি এবং হামাসের মিত্র কাতার ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সাথে বৈঠক করেন। উভয়পক্ষ মানবিক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরো বাড়াতে সম্মত হয়।
ইসরাইলি দৈনিক হারেতজ জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর মিসরের মধ্যস্থতায় ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। ইসরাইল গাজার অসামরিকীকরণের দাবি জানাচ্ছে আর হামাস ইসরাইলি ও মিসরীয় অবরোধ অবসানের দাবি জানাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, জাতিসঙ্ঘ ও ইইউ যুদ্ধবিরতির জামিন হবে।


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ভন্ড পীরের গোমর ফাক-২য় পর্ব

মাজারে সিজদা করা বৈধ কি ??? জিজ্ঞাসা : এক. ফেরেস্তারা হযরত আদমকে যেভাবে সম্মানপূর্বক সিজদা করেছিল সেভাবে বর্তমান যামানায় ওলী-আউলিয়াদের মাজারে সিজদা করা বা মাথা ঝুকানো জায়েজ কি না? জায়েজ না হলে প্রমাণ কী? দুই. সুন্নত তরিকায় কবর জিয়ারতের পদ্ধতি কী? বিস্তারিত জানালে কৃতজ্ঞ থাকব। জবাব : এক. ইবাদতের উদ্দেশ্যে আল্লাহ ছাড়া কাউকে সেজদা করা বা মাথা নোয়ানো কোনো কালেই বৈ ধ ছিল না। তবে সম্মান জ্ঞাপনার্থে সেজদা করা মাথা নোয়ানো পূর্ববর্তী যুগে বৈধ ছিল। কিন্তু ইসলাম ধর্মে শিরকের গন্ধ পর্যন্ত মিটিয়ে খালেস তাওহিদ প্রতিষ্ঠার্থে সম্মান সূচক সেজদা ও মাথা নোয়ানোও হারাম করে দেয়া হয়েছে। তাই ইসলাম ধর্মে কোনো ব্যাখাতেই ওলী-আউলিয়াগণের মাজারে-দরবারে সেজদা করা বা মাথা ঝুকানোর অবকাশ নেই। ফেরেস্তাগণ কর্তৃক স্বয়ং আল্লাহ পাকের হুকুমে আদম আ. এর প্রতি সম্মান প্রকাশার্থে সেজদা করার বিষয়টি আসমানী জগতের সাথে সম্পৃক্ত। এটি উর্দ্ধ জগতের বৈশিষ্ট। তার সাথে দুনিয়ার জগতের বিধি বিধান তুলনীয় নয়। সুতরাং এ দ্বারাও বিভ্রান্ত হওয়া যাবে না। দুই. কবর জিয়ারতের ইচ্ছা হলে মুস্তাহাব হলো প্রথমে দুই ...

ভন্ড-বেদাতীর গোমরফাক ১ম পর্ব

রাসূল সা. হাজির নাজির কিনা ? প্রশ্ন: আস সালামু আলাইকুম , আশা করি ভাল আছেন , আমার প্রশ্ন , নবী করিম সা. হজির ও নাজির কি না ? যারা পক্ষে বলে তাদের দলিল হলো সূরা আহযাবের একটি আয়াতের শাহদান শব্দ। এই শব্দের ব্যখ্যা কি ? মেহেরবানী করে দলিল সহ উত্তর দিবেন।   উত্তর: হাজির ও নাজির শব্দদুটো আরবী। হাজির অর্থ বিদ্যমান বা উপস্থিত। আর নাজির অর্থ দ্রষ্টা। যখন এ শব্দ দুটিকে এক সাথে মিলিয়ে   ব্যবহার করা হয় তখন অর্থ হয় ঐ স্বত্তা যার অস্তিত্ব এক স্থানে সীমাবদ্ধ নয় , বরং তার অস্তিত্ব একই সময়ে গোটা দুনিয়াকে বেষ্টন করে রাখে এবং দুনিয়ার প্রত্যেকটি জিনিসের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অবস্থা তার দৃষ্টির সামনে থাকে। পূর্বোক্ত ব্যখ্যা অনুসারে হাজির নাজির এটি একমাত্র আল্লাহ তায়ার সিফাত এবং তার জন্যই প্রযোজ্য , এমনকি নবী সা. বা কোন ওলী সব জায়গায় হাজির নাজির হতে পারে না। আল্লাহ তায়ালার সিফাতের সঙ্গে বান্দাকে মিলানো কুফর , শিরক ও চরম ভ্রষ্টতা। বিদাতীদের আক্বীদা মতে শুধু হুজুরে পাক সা. নন , বরং বুজুরগানে দ্বীনও পৃথিবীর সবকিছুকে হাতের তালুর মত দেখতে পান। তারা দূরের ও কাছের আওয়াজ শুনতে পান এবং হাজার হাজার মা...

ঈদ ঃ- ইসলাম ও আমরা

পবিত্র ঈদুল আযহা ও কুরবানীর শিক্ষা বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম ঈদুল আয্হা মুসলিম জাতির অন্যতম প্রধান ধমীয় উৎসব। ঈদুল আযহার অপর নাম কুরবানীর ঈদ। আরবী ‘ কুরবুন ’ থেকে ‘ কুরবানী ’ শব্দের উৎপত্তি। যার অথ ত্যাগের মাধ্যমে নৈকট্য লাভ। প্রতিবছর চান্দ্রমাসের ১০ যিলহজ্ব ঈদুল আযহা বিশ্বের মুসলমানদের নিকট উপস্থিত হয় কুরবানীর অফুরন্ত আনন্দ সওগাত ও ত্যাগের উজ্জ্বল মহিমা নিয়ে। এই মমে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ্ পাক ইরশাদ করেন , ‘ ফাসাল্লি লিরাবিবকা ওয়ানহার ’ অথাৎ তোমার প্রতিপালকের জন্য নামায পড় এবং কুরবানী কর। (সূরা আল-কাউসারঃ ২) হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে যে , সাহাবীগণ রাসূলুল্লাহ্ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করেন , ‘‘ এ কুরবানীগুলো কি ?’’ তিনি জবাব দিলেন , ‘ তোমাদের পিতা ইব্রাহিমের (আ.) সুন্নত। ’ ( ইবনে মাযাহ) ঈদুল আযহা বা কুরবানীর ঈদ পালনের সাথে একটি অনন্য পরীক্ষার ঘটনা বিজড়িত। আজ থেকে পাঁচ হাজার বছর পূর্বে মুসলিম জাতির পিতা হযরত ইব্রাহিম (আ.) এর মাধ্যমে এ ধর্মীয় অনুষ্ঠান শুরু হয়।   হযরত ইব্রাহিম (আ.) এর জান-মাল ছিল আল্লাহ্ তা ’ আলার সন্তুষ্টি লাভের জন্য নিবেদিত। হযরত ইব্রাহিম (আ.) সর্বাপেক্ষ প্রিয়বস...