সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

আহলে হাদিস তথা লা-মাজহাবি; একটা পর্যালোচনা




আমরা শুধু শুনেই আসছি , আহালে হাদিস নামধারী , এসকল সালাফীরা আমেরিকা, ইসরাইলের দালাল। কিন্তু কেন? এপ্রশ্ন সাধারণ মানুষের মনে জাগাটা স্বাভাবিক। আসুন আমরা একটু দেখে নিই এদের তৎপরতা।


1)আমরা জানি রাশিয়া আর আমেরিকার মধ্যে স্নায়ূযুদ্ধ দীর্ঘদিন যাবৎ চলে আসছে। যেখানে আমেরিকার "হ্যা" সেখানে রাশিয়ার "না"। আবার যেখানে আমেরিকার "না" সেখানে রাশিয়ার "হ্যা"। বিশ্ব রাজনীতেতে এমন ঘটনা ঘটে চলেছে অহরহ। এই রাশিয়া যখন আফগানিস্থান আক্রমন করলো, তখন আমেরিকা তার স্বভাবসুলভ কারনেই আফগান তালিবানদের সমর্থন করলো। বিভিন্নভাবে তাদের রাশিয়ার বিরুদ্ধে সমর্থন দিতে লাগলো। আর ঠিক তখন ই এই মতি মাদানী গং রা তালিবানদের এই সংগ্রামকে "জিহাদ" "ফরজ" ইত্যাদি উপাধীতে ভূষিত করতে লাগলো। অবাক ব্যাপার কি জানেন? এই তালিবানরা এখন রাজনৈতিক ভাবে আমেরিকার মনবাসনা পূর্ণ করতে না পারায় তারা হল আমেরিকার শত্রআমেরিকা হামলা করলো আফগান তালিবানদের উপর যারা বিশ্বের একমাত্র দেশ যারা শরিয়াহ কায়েম করে ছিল। এবার কিন্তু এই মতি গংদের ফতোয়া পাল্টে গেল !!! ফতোয়া দিতে দিতে মুখে ফেনা তুলে ফেলল," তালিবানরা খাওয়ারিজ" তাদের এই "জিহাদ" হারাম। " কেন ???? কারন এবার তালিবানরা লড়ছে মতি গংদের মনিবদের বিরুদ্ধে

2) আজ গোটা বিশ্বের মুসলিমরা কোথায় শান্তিতে আছে ? নেই শান্তি , নেই নিরাপত্তা। একটু তলিয়ে দেখুন এর পেছনে প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে আমেরিকাই দ্বায়ী। বিশ্বের বুকে এমন কোন দিন সূর্যাস্ত হয়না যেদিন কোন না কোন মুসলমানের রক্তে খোদার জমিন ভেজে না। পর্দানীশীন মা-বোনদের সম্ভ্রম হারানোর আর্তচিৎকারে কেঁপে ওঠে আকাশ-বাতাস। নির্যাতন সইতে সইতে যখন দেয়ালে পিঠ ঠেকে যায় তখন কয়েকজন মজলুম তরুণ মৃত্যুস্বীকার করে নেমে পড়ে প্রতিরোধের নেশায় হোক বা অন্য কোন কারনে । সেটা বোকো হারাম, আল-শাবাব, তেহেরিকে তালিবান বা অন্য যে কোন নাম । আর কুফফার মিডিয়া তখন এদের আখ্যা দেয় সন্ত্রাসী বল অবাক ব্যাপার কি জানেন ??? এই মতি গংরা আজ পর্যন্ত কোনদিন দরদ নিয়ে মজলুম মুসলমানদের পক্ষে কোন কথা বলেনি। কাফিরদের এই নৃশংসতার কোন নিন্দাটুকু পর্যন্ত জানায়নি!! উপরন্তু সাধারণ মুসলমানদের দৃষ্টি যাতে সে দিকে না পড়ে সেজন্য আদা-পানি খেয়ে নেমে পড়েছে। নামাজে হাত কতবার উঠবে , আমিন আস্তে না জোরে, সুরা ফাতিহা পড়বে কি পড়বে না, কোন আলেম কাফের , কোন আলেম বিদাআতী, কারা খাওয়ারিজ এই সবকিছু এমনভাবে প্রচার করতে শুরু করেছে যাতে সাধারণ মুসলমানদের দৃষ্টি ইরাক, সিরিয়া,ফিলিস্তীন, আফগানিস্থান, বার্মা, আফ্রিকা, ভারতসহ বিশ্বের মজলুম মুসলমানদের প্রতি না পড়ে। মসলমান জাতি যেন কখনো এক হতে নাপারে। তাহলে চিন্তা করুন কেন আমরা এদেরকে আমেরিকার দালাল বলবো না ????

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ভন্ড পীরের গোমর ফাক-২য় পর্ব

মাজারে সিজদা করা বৈধ কি ??? জিজ্ঞাসা : এক. ফেরেস্তারা হযরত আদমকে যেভাবে সম্মানপূর্বক সিজদা করেছিল সেভাবে বর্তমান যামানায় ওলী-আউলিয়াদের মাজারে সিজদা করা বা মাথা ঝুকানো জায়েজ কি না? জায়েজ না হলে প্রমাণ কী? দুই. সুন্নত তরিকায় কবর জিয়ারতের পদ্ধতি কী? বিস্তারিত জানালে কৃতজ্ঞ থাকব। জবাব : এক. ইবাদতের উদ্দেশ্যে আল্লাহ ছাড়া কাউকে সেজদা করা বা মাথা নোয়ানো কোনো কালেই বৈ ধ ছিল না। তবে সম্মান জ্ঞাপনার্থে সেজদা করা মাথা নোয়ানো পূর্ববর্তী যুগে বৈধ ছিল। কিন্তু ইসলাম ধর্মে শিরকের গন্ধ পর্যন্ত মিটিয়ে খালেস তাওহিদ প্রতিষ্ঠার্থে সম্মান সূচক সেজদা ও মাথা নোয়ানোও হারাম করে দেয়া হয়েছে। তাই ইসলাম ধর্মে কোনো ব্যাখাতেই ওলী-আউলিয়াগণের মাজারে-দরবারে সেজদা করা বা মাথা ঝুকানোর অবকাশ নেই। ফেরেস্তাগণ কর্তৃক স্বয়ং আল্লাহ পাকের হুকুমে আদম আ. এর প্রতি সম্মান প্রকাশার্থে সেজদা করার বিষয়টি আসমানী জগতের সাথে সম্পৃক্ত। এটি উর্দ্ধ জগতের বৈশিষ্ট। তার সাথে দুনিয়ার জগতের বিধি বিধান তুলনীয় নয়। সুতরাং এ দ্বারাও বিভ্রান্ত হওয়া যাবে না। দুই. কবর জিয়ারতের ইচ্ছা হলে মুস্তাহাব হলো প্রথমে দুই ...

ভন্ড-বেদাতীর গোমরফাক ১ম পর্ব

রাসূল সা. হাজির নাজির কিনা ? প্রশ্ন: আস সালামু আলাইকুম , আশা করি ভাল আছেন , আমার প্রশ্ন , নবী করিম সা. হজির ও নাজির কি না ? যারা পক্ষে বলে তাদের দলিল হলো সূরা আহযাবের একটি আয়াতের শাহদান শব্দ। এই শব্দের ব্যখ্যা কি ? মেহেরবানী করে দলিল সহ উত্তর দিবেন।   উত্তর: হাজির ও নাজির শব্দদুটো আরবী। হাজির অর্থ বিদ্যমান বা উপস্থিত। আর নাজির অর্থ দ্রষ্টা। যখন এ শব্দ দুটিকে এক সাথে মিলিয়ে   ব্যবহার করা হয় তখন অর্থ হয় ঐ স্বত্তা যার অস্তিত্ব এক স্থানে সীমাবদ্ধ নয় , বরং তার অস্তিত্ব একই সময়ে গোটা দুনিয়াকে বেষ্টন করে রাখে এবং দুনিয়ার প্রত্যেকটি জিনিসের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অবস্থা তার দৃষ্টির সামনে থাকে। পূর্বোক্ত ব্যখ্যা অনুসারে হাজির নাজির এটি একমাত্র আল্লাহ তায়ার সিফাত এবং তার জন্যই প্রযোজ্য , এমনকি নবী সা. বা কোন ওলী সব জায়গায় হাজির নাজির হতে পারে না। আল্লাহ তায়ালার সিফাতের সঙ্গে বান্দাকে মিলানো কুফর , শিরক ও চরম ভ্রষ্টতা। বিদাতীদের আক্বীদা মতে শুধু হুজুরে পাক সা. নন , বরং বুজুরগানে দ্বীনও পৃথিবীর সবকিছুকে হাতের তালুর মত দেখতে পান। তারা দূরের ও কাছের আওয়াজ শুনতে পান এবং হাজার হাজার মা...

‘হুদ হুদ’ প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত

ঘূর্ণিঝড় ‘ হুদ হুদ ’ উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘণীভূত হয়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। এটি অবস্থান করছে পশ্চিম মধ্যবঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পূর্ব মধ্যবঙ্গোপসাগর এলাকায়। ·          অগ্রসর হচ্ছে ‘ হুদ হুদ ’, সাগরে সতর্কতা সংকেত ·            ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকায় চট্টগ্রাম , কক্সবাজার , মংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে তিন নম্বর স্থানীয় সর্তকতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আবহাওয়া অধিদপ্তর শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার বুলেটিনে এ তথ্য দেওয়া হয়। এতে বলা হয় , ঘূর্ণিঝড়টি সন্ধ্যা ৬টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে , কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৯১০ কিমি দক্ষিণপশ্চিমে , মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৮০ কিমি দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ৮৭০ কিমি দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছে। এটি আরও ঘণীভূত হয়ে পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। এ সময় ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১২০ কিমি থেকে ...