সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

আরো ২ ইসরাইলি সৈন্য নিহত : বন্দী এক

গাজায় মসজিদ ও হাসপাতালে নির্বিচার হামলা
আরো ২ ইসরাইলি সৈন্য নিহত : বন্দী এক

ইসরাইলি ট্যাংক ও জঙ্গি বিমানগুলো গতকালও গাজায় দেড় শতাধিক টার্গেটে হামলা চালিয়েছে।

এর মধ্যে মসজিদ এবং হাসপাতাল রয়েছে। ইসরাইল বর্বরতায় গাজায় নিহতের সংখ্যা গতকাল ৬০০ ছাড়িয়েছে। জাতিসঙ্ঘের হিসাব মতে, ইসরাইলি আগ্রাসনের কারণে এ পর্যন্ত এক লাখেরও বেশি ফিলিস্তিনি জাতিসঙ্ঘ শরণার্থী সংস্থা পরিচালিত ৬৯টি স্কুলে আশ্রয় নিয়েছে। অন্য দিকে গাজা থেকে ইসরাইলে রকেট হামলাও অব্যাহত রয়েছে। গতকাল রাজধানী তেলআবিবসহ অন্তত ছয়টি

শহরে শত শত রকেট হামলা চালানো হয়েছে। তেলআবিবে একটি রকেটের আঘাতে কয়েকজন ইসরাইলি আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। গতকাল গাজায় স্থল অভিযান চালানোর সময় হামাসের হামলায় আরো দুই ইসরাইলি সেনা নিহত ও তিন সেনা মারাত্মক আহত হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ দিনে ২৭ ইসরাইলি সৈন্য ও দুই বেসামরিক নাগরিক নিহত হলো। এ ছাড়া এক ইসরাইলি সেনাকে বন্দী করার কথা জানিয়েছে হামাস। তবে ইসরাইলি বাহিনী এখনো বিষয়টি স্বীকার করেনি। এ দিকে হামাস ও ইসরাইলের মধ্যে অস্ত্র বিরতির জন্য আন্তর্জাতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। খবর আলজাজিরা ও বিবিসির।

গাজায় ইসরাইলি সেনা নিখোঁজ : গাজা উপত্যকায় এক ইসরাইলি সেনা নিখোঁজ হয়েছে। ওই সেনা নিহত হয়েছে বলে মনে করছে ইসরাইল। ইসরাইলি সেনাবাহিনীর বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যম। গাজা শহরের সীমান্তবর্তী শেজায়ায় রোববার সাঁজোয়া বহরের ওপর হামাসের হামলায় নিহত সাত সেনার একজনকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে ইসরাইলি প্রতিরা বাহিনী (আইডিএফ)। নিহত বাকি ছয় সেনার পরিচয় শনাক্ত করার প্রক্রিয়া শেষ ও নিশ্চিত হয়েছে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে আইডিএফ।

হামাস রোববার সন্ধ্যায় ইসরাইলি এক সেনাকে বন্দী করার দাবি করলেও তা অস্বীকার করেছিল ইসরাইল। কিন্তু হামাসের সামরিক শাখা কাসাম ব্রিগেডের মুখপাত্র আবু ওবায়দা বলেছেন, গত রোববার সীমান্তের কাছে যুদ্ধের সময় ওই ইসরাইলি সেনাকে আটক করা হয়। তিনি ওই সেনার পরিচয়পত্রের ফটোকপি এবং সেনাবাহিনীতে তার সিরিয়াল নম্বর প্রদর্শন করেন। তবে তার কোনো ছবি প্রদর্শন করেননি। তবে সেনা আটকের হামাসের দাবি সঠিক হয়ে থাকলে ২০০৬ সালের মতো ইসরাইলকে আবারো বেকায়দায় পড়তে হবে। ২০০৬ সালে গাজায় স্থল অভিযানের সময় গিলাদ শালিত নামে এক ইসরাইলি সেনাকে বন্দী করে পাঁচ বছর আটক করে রেখেছিল হামাস। পরে কয়েক শফিলিস্তিনি বন্দীকে মুক্তি দেয়ার বিনিময়ে গিলাত শালিতকে ফেরত পায় ইসরাইল। এবারো হয়তো ইসরাইলকে একই রকম পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।

হাসপাতাল ও মসজিদে হামলা : আন্তর্জাতিকভাবে তীব্র সমালাচনা সত্ত্বেও গাজায় ইসরাইলের নৃশংসতা অব্যাহত রয়েছে। এবার তাদের ল্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে আহতদের কেন্দ্রস্থল হাসপাতাল ও মসজিদ। মঙ্গলবার সকালে শহরের কেন্দ্রস্থল আলআকসা হাসপাতালে আক্রমণ চালিয়েছে তারা। হাসপাতালের তৃতীয়তলায় ইসরাইলি ট্যাংক শেলের আঘাতে নিহত হয়েছে কমপে চারজন। এ ছাড়া অন্তত পাঁচটি মসজিদেও হামলা চালানো হয়।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা আশরাফ আল কিদরার উদ্ধৃতি দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়, সোমবার সকালে খান ইউনিস শহরের একটি চূর্ণ বাড়ি থেকে অনেক লাশ বের করে আনেন উদ্ধারকর্মীরা। রাতে বাড়িটি ল্য করে বোমা নিপে করে ইসরাইলি যুদ্ধবিমান। কিদরা জানান, ঘটনাস্থল থেকে ২০টি লাশ উদ্ধার করা হয় এবং আরো দুই ব্যক্তিকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

রোববার বিকেলে এক জরুরি অধিবেশনে জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদ গাজায় বেসামরিক লোকের প্রাণহানির ঘটনায় গভীর উদ্বেগপ্রকাশ করে এবং জরুরি ভিত্তিতেলড়াই বন্ধের আহ্বান জানায়।

বান কি মুনের নিন্দা : গাজায় ইসরাইলের হামলা, হত্যাযজ্ঞ ও নৃশংসতার নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব বান কি মুন। বাংলাদেশ সময় রোববার রাত ১২টার দিকে (কাতার সময় রাত ৯টা) কাতারে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ নিন্দা জানান।
রোববার রাতে বান কি মুন কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খালেদ আল আতাইয়ার সাথে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন। সংবাদ সম্মেলনে বান কি মুন বলেন, ‘আমি নৃশংসতার নিন্দা জানাই। ইসরাইলের সংযত হওয়া উচিত। এ সময় তিনি রক্তপাত বন্ধের আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমাদের রক্তপাত বন্ধে পদপে নিতে হবে।

যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক উদ্যোগ : মিসরের রাজধানী কায়রোতে জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব বান কি মুনের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির বৈঠকের মধ্য দিয়ে গাজায় যুদ্ধবিরতির জন্য অন্তর্জাতিক কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার হয়েছে।

ইসরাইলি আগ্রাসন ও ও হামাসের রকেট হামলা বন্ধে কূটনৈতিক সমাধান বের করার চেষ্টায় সোমবার কায়রো যান কেরি। তিনি সেখানে বুধবার পর্যন্ত অবস্থান করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। অপর দিকে একই উদ্দেশ্যে মধ্যপ্রাচ্য সফরে থাকা জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব সোমবার কায়রো পৌঁছেন। ওই দিন রাতে কায়রোতে এই দুই বিশ্বনেতার মধ্যে বৈঠক হয়। এ সময় কেরি জানান, ‘সৃষ্ট মানবিক সঙ্কট হ্রাস করারচেষ্টা হিসেবে গাজায় চার কোটি ৭০ লাখ ডলারের সহায়তা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফিলিস্তিনিদের হতাহতের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও ইসরাইলের যথাযথ ও বৈধসামরিক অভিযানের প্রতি মৌন সমর্থন জানিয়েছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি। কেরি নিরপরাধ বেসামরিকদের লড়াই থেকে রার জন্য একটি সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্যহামাসের প্রতি আহ্বান জানান।

আরব লিগের প্রধান নাবিল আল আরাবিও এর আগে একই ধরনের আহ্বান জানান। লড়াই শেষ করার জন্য দুই পরে মিসরীয় প্রস্তাব মেনে নেয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। গত সপ্তাহে দেয়া মিসরীয় ওই প্রস্তাবটি ইসরাইল মেনে নিলেও প্রত্যাখ্যান করে হামাস। তাদের মতে, প্রস্তাবটি গ্রহণ করা হলে তা আত্মসমর্পণেরশামিল হবে।

জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদ শত্রুতা পরিত্যাগ করে দ্রুতযুদ্ধবিরতি করার আহ্বান জানালেও আরব রাষ্ট্রগুলোর তৈরি করা কঠোর ভাষার খসড়া প্রস্তাবটি অনুমোদন করেনি। মঙ্গলবার এ আহ্বানের পুনরাবৃত্তি করে দ্রুত শর্তহীন যুদ্ধবিরতি করার কথা বলেন বান। এরপর তার ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের পথে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। শেষ পাওয়া খবরে ৬০০ ফিলিস্তিনি ও ২৯ জন ইসরাইলি নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এ দিকে গাজায় অস্ত্রবিরতির জন্য কূটনৈতিক চাপ তীব্র করতে কায়রোতে আলোচনা করেছেন জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব বান কি মুন ও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি।


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ভন্ড-বেদাতীর গোমরফাক ১ম পর্ব

রাসূল সা. হাজির নাজির কিনা ? প্রশ্ন: আস সালামু আলাইকুম , আশা করি ভাল আছেন , আমার প্রশ্ন , নবী করিম সা. হজির ও নাজির কি না ? যারা পক্ষে বলে তাদের দলিল হলো সূরা আহযাবের একটি আয়াতের শাহদান শব্দ। এই শব্দের ব্যখ্যা কি ? মেহেরবানী করে দলিল সহ উত্তর দিবেন।   উত্তর: হাজির ও নাজির শব্দদুটো আরবী। হাজির অর্থ বিদ্যমান বা উপস্থিত। আর নাজির অর্থ দ্রষ্টা। যখন এ শব্দ দুটিকে এক সাথে মিলিয়ে   ব্যবহার করা হয় তখন অর্থ হয় ঐ স্বত্তা যার অস্তিত্ব এক স্থানে সীমাবদ্ধ নয় , বরং তার অস্তিত্ব একই সময়ে গোটা দুনিয়াকে বেষ্টন করে রাখে এবং দুনিয়ার প্রত্যেকটি জিনিসের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অবস্থা তার দৃষ্টির সামনে থাকে। পূর্বোক্ত ব্যখ্যা অনুসারে হাজির নাজির এটি একমাত্র আল্লাহ তায়ার সিফাত এবং তার জন্যই প্রযোজ্য , এমনকি নবী সা. বা কোন ওলী সব জায়গায় হাজির নাজির হতে পারে না। আল্লাহ তায়ালার সিফাতের সঙ্গে বান্দাকে মিলানো কুফর , শিরক ও চরম ভ্রষ্টতা। বিদাতীদের আক্বীদা মতে শুধু হুজুরে পাক সা. নন , বরং বুজুরগানে দ্বীনও পৃথিবীর সবকিছুকে হাতের তালুর মত দেখতে পান। তারা দূরের ও কাছের আওয়াজ শুনতে পান এবং হাজার হাজার মা...

ভন্ড পীরের গোমর ফাক-২য় পর্ব

মাজারে সিজদা করা বৈধ কি ??? জিজ্ঞাসা : এক. ফেরেস্তারা হযরত আদমকে যেভাবে সম্মানপূর্বক সিজদা করেছিল সেভাবে বর্তমান যামানায় ওলী-আউলিয়াদের মাজারে সিজদা করা বা মাথা ঝুকানো জায়েজ কি না? জায়েজ না হলে প্রমাণ কী? দুই. সুন্নত তরিকায় কবর জিয়ারতের পদ্ধতি কী? বিস্তারিত জানালে কৃতজ্ঞ থাকব। জবাব : এক. ইবাদতের উদ্দেশ্যে আল্লাহ ছাড়া কাউকে সেজদা করা বা মাথা নোয়ানো কোনো কালেই বৈ ধ ছিল না। তবে সম্মান জ্ঞাপনার্থে সেজদা করা মাথা নোয়ানো পূর্ববর্তী যুগে বৈধ ছিল। কিন্তু ইসলাম ধর্মে শিরকের গন্ধ পর্যন্ত মিটিয়ে খালেস তাওহিদ প্রতিষ্ঠার্থে সম্মান সূচক সেজদা ও মাথা নোয়ানোও হারাম করে দেয়া হয়েছে। তাই ইসলাম ধর্মে কোনো ব্যাখাতেই ওলী-আউলিয়াগণের মাজারে-দরবারে সেজদা করা বা মাথা ঝুকানোর অবকাশ নেই। ফেরেস্তাগণ কর্তৃক স্বয়ং আল্লাহ পাকের হুকুমে আদম আ. এর প্রতি সম্মান প্রকাশার্থে সেজদা করার বিষয়টি আসমানী জগতের সাথে সম্পৃক্ত। এটি উর্দ্ধ জগতের বৈশিষ্ট। তার সাথে দুনিয়ার জগতের বিধি বিধান তুলনীয় নয়। সুতরাং এ দ্বারাও বিভ্রান্ত হওয়া যাবে না। দুই. কবর জিয়ারতের ইচ্ছা হলে মুস্তাহাব হলো প্রথমে দুই ...

১০টি ইসলাম ধ্বংসকারী বিষয়

১০টি ইসলাম ধ্বংসকারী বিষয় প্রবন্ধটি পড়া হলে , শেয়ার করতে ভুলবেন না রহমান রহীম আল্লাহ্‌ তায়ালার নামে- সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তাআলার জন্য নিবেদিত। দরূদ ও সালাম অবতীর্ণ হোক সেই মহান নবীর উপর যার পরে আর কোন নবী নেই। আরো নাযিল হোক তাঁর পরিবার বর্গ , সহচর বৃন্দ এবং তাঁর হেদায়াতের অনুসারীদের উপর। অত:পর হে মুসলিম ভাই! এ কথা জেনে নিন যে , আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সকল বান্দার উপর ইসলামে প্রবেশ করা , উহা আঁকড়ে ধরা এবং উহার পরিপন্থী বিষয় থেকে সতর্ক থাকা ফরজ করেছেন। আর নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সে দিকে আহবান করার জন্যই প্রেরণ করেছেন। আল্লাহ্‌ এই মর্মে ঘোষণা দিয়ে বলেন , যে ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর অনুসরণ করবে সে হেদায়াত প্রাপ্ত হবে পক্ষান্তরে যে তাঁর থেকে বিমুখ হবে সে পথভ্রষ্ট হবে। তিনি বহু আয়াতে মুরতাদ হওয়ার মাধ্যম , শির্ক ও কুফরীর সকল প্রকার হতে সতর্ক করেছেন। বিদ্যানগণ মুরতাদের বিধি-বিধান অধ্যায়ে এই মর্মে উল্লেখ করেছেন যে , একজন মুসলমান ব্যক্তির রক্ত ও ধন-সম্পদ হালাল কারী বিভিন্ন ইসলাম বিধ্বংসী কার্য কলাপ সম্পদনে...