সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ওরে বাবা!

ওরে বাবা! গাজা দখল করা যাবে না: ইসরাইলি মন্ত্রিসভা

গাজা উপত্যকায় আগ্রাসন চালাতে গিয়ে ইসরাইলি সেনারা হামাসের হাতে কতখানি মার খেয়েছে তার খবর সঠিকভাবে প্রকাশ করেনি ইহুদিবাদীদের নিয়ন্ত্রিত পশ্চিমা গণমাধ্যম। তেল আবিব শুধু তার ৬৪ সেনার নিহত হওয়ার খবর দিয়েই দায় সেরেছে। কিন্তু ইহুদিবাদীরা হামাসের অকুতোভয় যোদ্ধাদের ভয়ে কতখানি আতঙ্কে রয়েছে তা প্রকাশ পেয়েছে ইসরাইলি মন্ত্রিসভার সাম্প্রতিক এক বৈঠকে।
বৈঠকটির খবর দিয়ে ইসরাইলি দৈনিক হারেতজ আজ (বুধবার) জানিয়েছে, গাজা উপত্যকাকে পুনর্দখল করা হবে কিনা তা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে নিজেদের দুঃস্বপ্নের বিষয়টি চেপে রাখতে পারেননি ইসরাইলের উচ্চপদস্থমন্ত্রীরা। তারা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতেই রাজি হননি।
মন্ত্রিসভার কোনো কোনো সদস্যের উদ্ধৃতি দিয়ে পত্রিকাটি জানিয়েছে, ইসরাইলি মন্ত্রীরা গাজা পুনর্দখলের বিষয়টি নিয়ে ভাবতেও রাজি নন।
গত ৩১ জুলাই অনুষ্ঠিত বৈঠকে ইহুদিবাদী সেনা কর্মকর্তারা মন্ত্রীসভাকে জানান, গাজা উপত্যকার বড় শহরগুলোর প্রায় প্রত্যেকেটি বাড়িতে ইসরাইলি সেনাদের হত্যা করার জন্য ফাঁদ পাতা আছে। সেইসঙ্গে এসব শহরের প্রতিটি সড়ক ও অলিগলিতে পাতা রয়েছে বিস্ফোরক। এ অবস্থায় গাজা উপত্যকা দখলের জন্য মাসের পর মাস অভিযান চালাতে হবে এবং তাতে নিহত হবে শত শত ইসরাইলি সেনা। এ ছাড়া, এ উপত্যকাকে অস্ত্র ও সন্ত্রাসীমুক্ত করতে বহু বছর সময় লাগবে; এতে ব্যয় হবে শত শত কোটি শেকেল (ইসরাইলি মূদ্রা)।
ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এভিগডোর লিবারম্যান এবং কৌশলগত ও গোয়েন্দা বিষয়ক মন্ত্রী ইউভাল স্টেইনিত্‌জের পক্ষ থেকে গাজা উপত্যকাকে পুরোপুরি দখল করে নেয়ার দাবি জানানোর পর ইহুদিবাদী মন্ত্রিসভার ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়া, ইসরাইলি অভ্যন্তরীণ প্রতিরক্ষামন্ত্রী গিলাদ এরদান বহু আগে থেকে গাজা উপত্যকাকে পুনর্দখল করার দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
কিন্তু তেল আবিবে বসে গাজাকে দখল করার দাবি জানানো যতটা সহজ যুদ্ধক্ষেত্রে কাজটি যে ততটাই কঠিন তা হাঁড়ে হাঁড়ে টের পেয়েছেন ইসরাইলি সেনাপ্রধান জেনারেল বেনি গান্‌তজ। তাই তিনি মন্ত্রিসভাকে এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করার আহ্বান জানান।
ইসরাইলি মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে উপস্থিত একজন মন্ত্রী দৈনিক হারেতজকে জানান, “বৈঠকে তারা (সেনা কর্মকর্তারা) এমন অভিজ্ঞতার কথা বলছিলেন যেন তারা তা অর্জন করেছেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ থেকে। গাজাকে সামরিক উপায়ে দখলের বিষয়টি আলোচনার টেবিল থেকে বাদ দেয়ার জন্যই মূলত এ বৈঠক ডাকা হয়েছিল।
শেষ পর্যন্ত বৈঠকে গাজা দখলের পরিকল্পনা কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়। ইসরাইলি মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ ব্যাপারে কোনো ভোটাভুটি হয়নি। তবে রক্তপিপাসু প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মন্ত্রিদের উদ্দেশ করে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন- গাজা দখলের পক্ষে কি কেউ ভোট দেবেন? এর উত্তরে হাত তোলা তো দূরের কথা মাথা তুলতেই রাজি হননি কোনো ইহুদিবাদী মন্ত্রী।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ভন্ড পীরের গোমর ফাক-২য় পর্ব

মাজারে সিজদা করা বৈধ কি ??? জিজ্ঞাসা : এক. ফেরেস্তারা হযরত আদমকে যেভাবে সম্মানপূর্বক সিজদা করেছিল সেভাবে বর্তমান যামানায় ওলী-আউলিয়াদের মাজারে সিজদা করা বা মাথা ঝুকানো জায়েজ কি না? জায়েজ না হলে প্রমাণ কী? দুই. সুন্নত তরিকায় কবর জিয়ারতের পদ্ধতি কী? বিস্তারিত জানালে কৃতজ্ঞ থাকব। জবাব : এক. ইবাদতের উদ্দেশ্যে আল্লাহ ছাড়া কাউকে সেজদা করা বা মাথা নোয়ানো কোনো কালেই বৈ ধ ছিল না। তবে সম্মান জ্ঞাপনার্থে সেজদা করা মাথা নোয়ানো পূর্ববর্তী যুগে বৈধ ছিল। কিন্তু ইসলাম ধর্মে শিরকের গন্ধ পর্যন্ত মিটিয়ে খালেস তাওহিদ প্রতিষ্ঠার্থে সম্মান সূচক সেজদা ও মাথা নোয়ানোও হারাম করে দেয়া হয়েছে। তাই ইসলাম ধর্মে কোনো ব্যাখাতেই ওলী-আউলিয়াগণের মাজারে-দরবারে সেজদা করা বা মাথা ঝুকানোর অবকাশ নেই। ফেরেস্তাগণ কর্তৃক স্বয়ং আল্লাহ পাকের হুকুমে আদম আ. এর প্রতি সম্মান প্রকাশার্থে সেজদা করার বিষয়টি আসমানী জগতের সাথে সম্পৃক্ত। এটি উর্দ্ধ জগতের বৈশিষ্ট। তার সাথে দুনিয়ার জগতের বিধি বিধান তুলনীয় নয়। সুতরাং এ দ্বারাও বিভ্রান্ত হওয়া যাবে না। দুই. কবর জিয়ারতের ইচ্ছা হলে মুস্তাহাব হলো প্রথমে দুই ...

ভন্ড-বেদাতীর গোমরফাক ১ম পর্ব

রাসূল সা. হাজির নাজির কিনা ? প্রশ্ন: আস সালামু আলাইকুম , আশা করি ভাল আছেন , আমার প্রশ্ন , নবী করিম সা. হজির ও নাজির কি না ? যারা পক্ষে বলে তাদের দলিল হলো সূরা আহযাবের একটি আয়াতের শাহদান শব্দ। এই শব্দের ব্যখ্যা কি ? মেহেরবানী করে দলিল সহ উত্তর দিবেন।   উত্তর: হাজির ও নাজির শব্দদুটো আরবী। হাজির অর্থ বিদ্যমান বা উপস্থিত। আর নাজির অর্থ দ্রষ্টা। যখন এ শব্দ দুটিকে এক সাথে মিলিয়ে   ব্যবহার করা হয় তখন অর্থ হয় ঐ স্বত্তা যার অস্তিত্ব এক স্থানে সীমাবদ্ধ নয় , বরং তার অস্তিত্ব একই সময়ে গোটা দুনিয়াকে বেষ্টন করে রাখে এবং দুনিয়ার প্রত্যেকটি জিনিসের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অবস্থা তার দৃষ্টির সামনে থাকে। পূর্বোক্ত ব্যখ্যা অনুসারে হাজির নাজির এটি একমাত্র আল্লাহ তায়ার সিফাত এবং তার জন্যই প্রযোজ্য , এমনকি নবী সা. বা কোন ওলী সব জায়গায় হাজির নাজির হতে পারে না। আল্লাহ তায়ালার সিফাতের সঙ্গে বান্দাকে মিলানো কুফর , শিরক ও চরম ভ্রষ্টতা। বিদাতীদের আক্বীদা মতে শুধু হুজুরে পাক সা. নন , বরং বুজুরগানে দ্বীনও পৃথিবীর সবকিছুকে হাতের তালুর মত দেখতে পান। তারা দূরের ও কাছের আওয়াজ শুনতে পান এবং হাজার হাজার মা...

ঈদ ঃ- ইসলাম ও আমরা

পবিত্র ঈদুল আযহা ও কুরবানীর শিক্ষা বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম ঈদুল আয্হা মুসলিম জাতির অন্যতম প্রধান ধমীয় উৎসব। ঈদুল আযহার অপর নাম কুরবানীর ঈদ। আরবী ‘ কুরবুন ’ থেকে ‘ কুরবানী ’ শব্দের উৎপত্তি। যার অথ ত্যাগের মাধ্যমে নৈকট্য লাভ। প্রতিবছর চান্দ্রমাসের ১০ যিলহজ্ব ঈদুল আযহা বিশ্বের মুসলমানদের নিকট উপস্থিত হয় কুরবানীর অফুরন্ত আনন্দ সওগাত ও ত্যাগের উজ্জ্বল মহিমা নিয়ে। এই মমে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ্ পাক ইরশাদ করেন , ‘ ফাসাল্লি লিরাবিবকা ওয়ানহার ’ অথাৎ তোমার প্রতিপালকের জন্য নামায পড় এবং কুরবানী কর। (সূরা আল-কাউসারঃ ২) হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে যে , সাহাবীগণ রাসূলুল্লাহ্ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করেন , ‘‘ এ কুরবানীগুলো কি ?’’ তিনি জবাব দিলেন , ‘ তোমাদের পিতা ইব্রাহিমের (আ.) সুন্নত। ’ ( ইবনে মাযাহ) ঈদুল আযহা বা কুরবানীর ঈদ পালনের সাথে একটি অনন্য পরীক্ষার ঘটনা বিজড়িত। আজ থেকে পাঁচ হাজার বছর পূর্বে মুসলিম জাতির পিতা হযরত ইব্রাহিম (আ.) এর মাধ্যমে এ ধর্মীয় অনুষ্ঠান শুরু হয়।   হযরত ইব্রাহিম (আ.) এর জান-মাল ছিল আল্লাহ্ তা ’ আলার সন্তুষ্টি লাভের জন্য নিবেদিত। হযরত ইব্রাহিম (আ.) সর্বাপেক্ষ প্রিয়বস...